ডেস্ক রিপোর্ট ॥ রাজধানীসহ দেশে শিশুদের মধ্যে জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমানে হাম ও ডেঙ্গুর পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জা, টাইফয়েড, ভাইরাল হেপাটাইটিস-এ, মামস, টনসিলাইটিস, ফ্যারেঞ্জাইটিস, কনজাংটিভাইটিস ও চিকুনগুনিয়ায় শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. কামরুজ্জামান জানান, হামের প্রকোপ বেশি। হাম-পরবর্তী জটিলতা নিয়েও শিশুরা আসছে। এরপর ডেঙ্গু ও টাইফয়েড বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকুনগুনিয়ায় জয়েন্টে ব্যথা এবং কনজাংটিভাইটিসে চোখে পিঁচুটি দেখা যাচ্ছে।
রোববার শ্যামলীর শিশু হাসপাতালে সকাল থেকেই জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিস্তেজ অবস্থায় শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের ভিড় ছিল। পাঁচটি কাউন্টারে চিকিৎসকরা রোগী দেখছিলেন। আগে বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২০০-২৫০ রোগী এলেও এখন তা দ্বিগুণ। জরুরি বিভাগসহ প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে; ৬-৮ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। পাঁচ বছরের সাধিয়ার জ্বরের সঙ্গে গলা ফুলে যাওয়ায় চিকিৎসকরা মামসের সন্দেহে পরীক্ষা দিয়েছেন।
এদিকে ডেঙ্গুতে রোববার পর্যন্ত চলতি বছর ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনেই মারা গেছেন ৫২ জন। ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু ও ১ হাজার ৫১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মোট ভর্তি ৫১ হাজার ৮৩৭ এবং ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৯৩ জন। মৃতদের ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ নারী ও ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ।
হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন শিশুর মৃত্যু ও ৯০৫ জন শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ-১৩ সেপ্টেম্বর উপসর্গে আক্রান্ত ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৪৩, নিশ্চিত রোগী ২০ হাজার ৬৯। উপসর্গে মৃত্যু ৯২২ এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০০।
