ডেস্ক রিপোর্ট ॥ সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর প্রস্তাবিত খসড়ায় অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকার অনুমোদিত অন্যান্য সংস্থা বা বাহিনীকেও নির্দিষ্ট ডিজিটাল তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়ার ধারা ৮(২)-এ সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি, ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, জাতিগত বৈষম্য থেকে সহিংসতার আশঙ্কা, অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নির্দেশনা, অপতথ্য বা গুজব এবং ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মানহানিকর তথ্যকে এর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রকে অপমান করে এমন তথ্যের বিরুদ্ধেও কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া যাবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা যাবে।
খসড়ায় যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং ও অশ্লীল কনটেন্টের পাশাপাশি মানহানিকর তথ্যকে ২৫ ধারার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। বুলিংয়ের নতুন সংজ্ঞা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কনটেন্টকে সংশ্লিষ্ট অপরাধের আওতায় আনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কোম্পানি বা আইনগত সত্তার মাধ্যমে অপরাধ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান বহাল থাকছে। দোষী কোম্পানির নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল কিংবা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বিচার ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এনে নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধ সাইবার ট্রাইব্যুনালের আওতায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান খসড়াটিকে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে এক আইনে একীভূত করা বৈশ্বিক উত্তম চর্চার পরিপন্থি।
