আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ ও আলোচনায় ফেরার জন্য সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে এসব শর্ত পাঠানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনার পাশাপাশি আরও কঠোর পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসিন রেজাই বলেন, তেহরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শর্তগুলো পাঠিয়েছে এবং এখন ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকাশ্যে জানানো দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও ইরানের দাবির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ইরানকে ঘিরে শিগগিরই বড় কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি সম্ভাব্য তিনটি পথের কথা উল্লেখ করেন—আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা অথবা সামরিকভাবে বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে উৎখাতের চেষ্টা। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও তিনি উন্মুক্ত রেখেছেন।
এদিকে ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা নতুন বড় ধরনের হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থকে পাল্টা হামলার আওতায় আনা হবে। ইরানের সামরিক বাহিনী এ ধরনের পরিস্থিতিতে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সামনে রেখে ইরানের শীর্ষ নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের চলাচল ও বিলাসবহুল পণ্য কেনাকাটায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সূত্র: টাইমস নাউ
