আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরান থেকে মার্কিন কর্মকর্তা ও নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি কর্মীদের সুরক্ষা জোরদার করা হচ্ছে এবং দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে কর্মীসংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তারা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে এসব তথ্য জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জে ক্লেটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো স্মারকলিপিতে জানান, মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার পরিকল্পনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাতে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা স্মারকলিপির বিষয়বস্তু নিশ্চিত করেন। এর আগে অ্যাক্সিওস এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের নিয়মিত হুমকির বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা বিভিন্ন দেশে কর্মরত মার্কিন কর্মকর্তা, বিশেষত রাষ্ট্রদূতদের সম্ভাব্য লক্ষ্য করে হামলার তথ্য পর্যালোচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ইরানি এজেন্টদের উপস্থিতির সম্ভাবনা এবং ইউরোপের কয়েকটি স্থানের ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছে। তবে অন্য এক কর্মকর্তা মনে করেন, বিদেশে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা সীমিত। হোয়াইট হাউস, ক্লেটনের দপ্তর ও সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন নিরাপত্তা তথ্যের ভিত্তিতে কূটনৈতিক মিশনে কর্মী মোতায়েন নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর সম্ভাব্য হামলা এবং ইরানের পরিকল্পনা কর্মীসংখ্যা সমন্বয়ের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিশনগুলো আগে থেকেই সীমিত কার্যক্রমে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের আট মাসে জ্বালানির দাম বেড়েছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনসমর্থন কমেছে। গত বুধবার নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি। গত কয়েক মাসে তিনি বড় সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। একই সময়ে ইরানের জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বিক্রি বন্ধ করতে দেশটির বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ রয়েছে।
কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান পাল্টা হামলার পথ খুঁজছে। অক্টোবরে সম্ভাব্য হামলার তথ্যের পর দক্ষিণ ইংল্যান্ডের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি বি-১ বোমারু বিমান সরানো হয়। ঘাঁটিতে হামলার আশঙ্কার তথ্য সামরিক কমান্ডাররা পেয়েছিলেন; একসঙ্গে এত বিমান সরানোর ঘটনা ছিল নজিরবিহীন। ক্লেটনের স্মারকলিপিতে আরও সরকারি কর্মীকে সতর্ক করতে কিছু গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তার স্তর কমানোর উদ্যোগের কথাও বলা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আরব দেশ ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ২ মার্চ ইরাক, জর্ডান ও বাহরাইনের মার্কিন মিশন থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সৌদি আরবের মিশনগুলো থেকেও কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যেতে বলা হয়; রিয়াদের দূতাবাস ও আশপাশে ইরানের হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
যুদ্ধের আগে বৈরুত ও জেরুজালেমের দূতাবাসে ‘অথরাইজড ডিপারচার’ অনুমোদন দেওয়া হয়, যাতে অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাঁদের পরিবার স্বেচ্ছায় চলে যেতে পারেন। বৈরুতে যুদ্ধ শুরুর চার দিন আগে এবং জেরুজালেমে এক দিন আগে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। গ্রীষ্মে সংঘাত কমলে কয়েকজন কূটনীতিককে কর্মস্থলে ফিরতে দেওয়া হয়। নতুন গোয়েন্দা তথ্যের পর নিরাপত্তা উদ্বেগ আবারও বেড়েছে।
