আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে প্রায় সরে এসেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৩ অক্টোবর) ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি সমাবেশে যোগ দিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন। তেহরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে বিবেচিত হলেও ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন দাবি সামনে এসেছে।
ট্রাম্প একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম কমছে বলেও দাবি করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে তেলের দাম কম এবং বাইডেন প্রশাসনের সময়ের তুলনায়ও কম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসন ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এরপরই তিনি দাবি করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সব পরিকল্পনাই প্রায় ছেড়ে দিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এ বক্তব্যের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। ইরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটি জানিয়েছে, এই কর্মসূচি নিয়ে তারা কোনো আপস করবে না।
গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সেখানেও তিনি পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। পেজেশকিয়ান বলেন, ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেন তিনি।
তবে ইরান তাদের শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির কাঠামো পরিবর্তনে রাজি নয়। তেহরানের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কর্মসূচিতে কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।
এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তি ছিল। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ ইতোমধ্যে অষ্টম মাসে পড়েছে। যুদ্ধের মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযোগ এবং তেহরানের পাল্টা অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে রয়েছে।
