আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ পেঁয়াজের প্রতীকী শেষকৃত্য—এমন দৃশ্য এখন দেখা যাচ্ছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে। কারণ, কেজি দুই রুপিতেও ক্রেতা নেই। ভারতীয় কৃষকেরা দোষারোপ করছেন বাংলাদেশকে, যেখানে এ বছর পেঁয়াজের রেকর্ড উৎপাদন হওয়ায় আমদানি বন্ধ রয়েছে। এই আমদানি বন্ধ সিদ্ধান্ত ভারতীয় বাজারে পেঁয়াজের অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি করে এবং ব্যাপক দরপতনের সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মধ্যপ্রদেশের মান্দাসৌর অঞ্চলের চাষিরা শোকসঙ্গীত, মালা এবং ধূপ জ্বালিয়ে পেঁয়াজের প্রতীকী শেষকৃত্য আয়োজন করেছেন। কৃষকদের দাবি, বাংলাদেশ তাদের পেঁয়াজ আমদানি না করায় এবং স্থানীয় বাজারে ক্রেতা না থাকায় তারা উৎপাদিত পেঁয়াজ প্রায় ফেলে দিচ্ছেন।
বাংলাদেশে অবশ্য চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। সরকারি হিসাবে দেখা যায়, এ বছর দেশের পেঁয়াজ উৎপাদন সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। রবি মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজ—যা মোট উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ—ইতোমধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে। এর সঙ্গে খারিফ–১ মৌসুমের উৎপাদন যোগ হওয়ায় সারা বছর দেশীয় পেঁয়াজের যোগান বজায় থাকবে। ফলে আমদানির প্রয়োজন নেই।
ভারতের ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে—বাংলাদেশ আগে ভারতের রপ্তানিকৃত পেঁয়াজের এক-তৃতীয়াংশ কিনত। এবার সেই বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ। বিশাল পরিমাণ পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে পচে যাচ্ছে। ভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর অভিযোগ—বাংলাদেশ আমদানি বন্ধ করায় তাদের লাখ লাখ কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশের কৃষকেরা অবশ্য এখন অনেকটাই স্বস্তিতে। দেশীয় উৎপাদনই দেশের চাহিদা পূরণ করছে এবং বাজারকে স্থিতিশীল রাখছে। ফলে ভারতীয় কৃষকের ক্ষোভের বিপরীতে বাংলাদেশে আসছে স্থিতিশীলতার বার্তা।
