পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥ কুয়াকাটা পৌর জামায়াতে ইসলামীর ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি গ্রাম ডা: আ. হালিমকে বহিষ্কারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে দলীয় নেতারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ তুলে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে ন্যায্য বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে অভিযুক্ত আ. হালিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আ. হালিম দাবি করেন, তার বাড়িতে একাধিক পরিবার ভাড়া থাকেন এবং তিনি ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত নন। তিনি বলেন, “আমার বাসায় ছয়টি পরিবার ভাড়া থাকে। এর মধ্যে একটি পরিবার মা-মেয়ে পরিচয়ে চারজন নারী দুই মাস আগে বাসা নেয়। তারা কোথায় যায় বা কী করে, তা আমার জানার বিষয় নয়। কোনো আলোচনা ছাড়াই আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
তিনি অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে জানান, শিগগিরই এ বিষয়ে তিনি নিজে সংবাদ সম্মেলন করে অবস্থান তুলে ধরবেন।
তবে আ. হালিমের বক্তব্যের বিপরীতে স্থানীয়দের ভিন্ন দাবি রয়েছে। মুসুল্লীয়াবাদ সিনিয়র মাদ্রাসার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক এবং আশপাশের বাসিন্দারা সাংবাদিকদের জানান, আ. হালিম দীর্ঘ চার বছর ধরে পতিতাদের কাছে বাসা ভাড়া দিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, রাতের বেলা ওই বাড়িটি কার্যত পতিতালয়ে পরিণত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাশেই মাদ্রাসা ও স্কুল থাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চোখে এসব দৃশ্য পড়ত। একাধিকবার সতর্ক করার পরও আ. হালিম বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “জামায়াতে ইসলাম করতে হলে অবশ্যই দলীয় নীতিমালা ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
