আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর্থিক চাপও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর Pentagon জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ শুধু সমরাস্ত্রের সংকটই তৈরি করবে না, বরং গোলাবারুদ পুনরায় সংগ্রহে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন গড়ে ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় হয় বলে জানিয়েছে Center for a New American Security। অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার খরচ হয়েছে। পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক Kent Smetters পূর্বাভাস দিয়েছেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হলে মোট ব্যয় ২১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
গত এক বছরে কেবল ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অভিযানে ওয়াশিংটন ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। ইরানের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেডিএএম কিট ও এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং ইরানের বিরুদ্ধে বারবার সামরিক অভিযান এই সংকটকে ত্বরান্বিত করেছে। পেন্টাগনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশল মূলত রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তির বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি উচ্চতীব্রতার যুদ্ধ মাথায় রেখে তৈরি। কিন্তু ইরানের মতো দেশের দীর্ঘস্থায়ী, কম খরচের ড্রোন ও রকেট হামলা সামাল দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
