পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় নিখোঁজ শিশু আয়েশা মনির লাশ নিজ বাড়ির রান্নাঘর থেকে উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর এমন ভয়াবহ পরিণতি কেউ কল্পনাও করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার বিকেলে রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা মনি। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবার ও প্রতিবেশীরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও আয়েশার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এলাকায় মাইকিং করে অনুসন্ধান চালানো হয়। আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসী দিনরাত চেষ্টা করেও কোনো সূত্র উদ্ধার করতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করছিলেন।
রোববার বেলা ১১টার দিকে পুলিশের একটি দল তদন্তের অংশ হিসেবে বাড়িতে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে রান্নাঘরের এক কোণে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আয়েশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মুহূর্তেই কান্না ও আহাজারিতে ভেঙে পড়ে পরিবার এবং এলাকাবাসী।
নিহত আয়েশার মা সৌদি আরবে প্রবাসে থাকায় ঘটনাটি আরও হৃদয়বিদারক হয়ে ওঠে। সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রবাসে থাকা মায়ের অবস্থার কথা ভেবে শোকাহত এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা দ্রুত উদঘাটন করা জরুরি। তারা মনে করছেন, বাড়ির ভেতরে লাশ পাওয়া যাওয়ায় ঘটনার রহস্য আরও গভীর।
রাঙ্গাবালী থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
