আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এলিট ইউনিট ‘ডেল্টা ফোর্স’-এর অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার মেক্সিকোর নিকটবর্তী এই দেশটিতে চালানো হয় এই গোপন সামরিক অভিযান।
মার্কিন সূত্রের বরাতে জানা যায়, মাদুরোকে তার অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ‘সেফ হাউস’ থেকে আটক করা হয়। এরপর প্রায় ২ হাজার ১০০ মাইল পথ অতিক্রম করে তাকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের গুরুতর অভিযোগ এনেছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আজ সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে। এই ঘটনায় ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদুরোকে আটক করার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়া ও কিউবার সরকারকে লক্ষ্য করে কঠোর বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখন মার্কিন প্রভাবের বলয়ে চলে আসছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে কিউবার ওপর। তার মতে, কিউবা অর্থনৈতিকভাবে ধসে পড়ার দ্বারপ্রান্তে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান শুধু ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নয়, বরং পুরো লাতিন আমেরিকার শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।
আল-জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী কৌশল নতুন করে অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: আল জাজিরা
