পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥ পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কুকুরের হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অধিকাংশই নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, কুকুরটি হঠাৎ করেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং নতুন বাজার, রাজাখালী, থানাব্রীজ, পীরতলা বাজারসহ একাধিক এলাকায় ছুটে গিয়ে পথচারীদের শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড় দেয়। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন অন্তত ১৫ জন। বাকিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী ও বরিশালে পাঠানো হয়েছে। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জি এম এনামুল হক বলেন, সরকারি পর্যায়ে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় আহতদের স্বজনদের বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশিক হাজরা জানান, ইউএনওর নির্দেশে স্থানীয়দের সহায়তায় কুকুরটিকে শনাক্ত করে মেরে ফেলা হয়েছে। কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি গৃহপালিত কুকুরের মালিকদের নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়ার আহ্বান জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা ফরিদা সুলতানা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
