আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় কোনো নির্বাচন হবে না এবং আপাতত দেশটির দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
সোমবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ভেনেজুয়েলাকে আগে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে নির্বাচন সম্ভব নয়।” তিনি দাবি করেন, দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা এতটাই ভেঙে পড়েছে যে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নেই।
এর আগে শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িত নয়।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই মাদক চক্রের বিরুদ্ধে, যারা ভেনেজুয়েলার কারাগার থেকে অপরাধী, মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে।
এদিকে সোমবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে মাদুরো মাদক-সন্ত্রাসবাদসহ একাধিক ফেডারেল অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং বলেন, তিনিই এখনও তার দেশের বৈধ নেতা। তবে মাদুরো আটক হওয়ার পর একই দিনে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ করানো হয়।
ট্রাম্প জানান, রদ্রিগেজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন। তবে মাদুরো আটক হওয়ার আগে তার সহযোগীদের সঙ্গে কোনো গোপন যোগাযোগ ছিল—এমন দাবি তিনি অস্বীকার করেন। মাদুরোকে সরাতে ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “অনেকেই চুক্তি করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা এই পথটাই বেছে নিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্প্যানিশ ভাষায় সাবলীলভাবে রদ্রিগেজের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সম্পর্ক দৃঢ়।
