আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো উপায়ে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত। দ্বীপটির জনগণের মতামত বা ডেনমার্কের আপত্তি—কোনোটিকেই তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখল না করে, তবে সেখানে রাশিয়া অথবা চীন আধিপত্য বিস্তার করবে। তার ভাষায়, ‘আমি রাশিয়া বা চীনকে প্রতিবেশী হিসেবে চাই না।’ এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি শক্তি প্রয়োগের বিকল্পও খোলা রেখেছেন।
গ্রিনল্যান্ড লিজ নেওয়ার প্রস্তাব কেন অগ্রহণযোগ্য—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মালিকানা অপরিহার্য। লিজ নেওয়া ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রুশ বার্তা সংস্থা তাস শনিবার (১০ জানুয়ারি) জানায়, ট্রাম্প এখনো গ্রিনল্যান্ড কেনার আর্থিক দিক নিয়ে প্রকাশ্যে কথা না বললেও ভবিষ্যতে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প বর্তমানে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মনে করছেন, গ্রিনল্যান্ড প্রথমে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়ে পরে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে পারে।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী ন্যাটোর আওতায় দ্বীপটির নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প সবসময় উন্মুক্ত।
ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন তার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার একমাত্র লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ন্যাটোর ভেতরে বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও টানাপোড়েন বাড়াতে পারে।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ও ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের প্রতিযোগিতা এখন বিশ্ব শান্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
