পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥ কলাপাড়া উপজেলায় নিখোঁজের তিনদিন পর খালের চরে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় এক যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মধুখালি গ্রামের সাপুড়িয়া খাল এলাকা থেকে নিহত ফেরদৌস মুন্সি (৩৮)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ফেরদৌস মুন্সি মধুখালি গ্রামের রহমান মুন্সির ছেলে। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে অসুস্থ বাবাকে দেখে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ করলেও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
রবিবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সাপুড়িয়া খালের চরে নতুন করে কাটা মাটির চিহ্ন দেখতে পান। এতে সন্দেহ হলে তারা মাটি সরাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিহতের গলায় লাইলনের রশি দিয়ে ফাঁস দেওয়া ছিল। তার বাম হাতের বুড়ো আঙুল বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়, যা হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার ইঙ্গিত দেয়।
কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সমীর সরকার বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। লাশ গুমের উদ্দেশ্যে খালের চরে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং খুব দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
