ডেস্ক রিপোর্ট ॥ প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনস্কেল কার্যকরের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করা হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা কমিটির শেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে কমিটির প্রায় সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে। এরপর পরবর্তী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন ভাতা কার্যকর হবে। বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। পুরো বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলেও কমিশনের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটি আগের অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত এই বরাদ্দের বড় অংশ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের নতুন বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রীর সম্মতির পর অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এটি আইন মন্ত্রণালয়ের আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে। এরপরই নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে।
