আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থনৈতিক আঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছেন। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, কোনো হুমকি বা সামরিক শক্তি প্রদর্শনে তারা ভীত নয় এবং প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার তাদেরই।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শুক্রবার মাত্র দুটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার। এর আগের দিন দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে, যার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে আবুধাবি। সংঘাতের আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করত।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় চার ডলারে পৌঁছেছে। ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের কিছুটা বেশি দামে জ্বালানি কেনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি ‘দুষ্ট দেশকে’ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে এই মূল্য দিতে হচ্ছে। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এর আগে কম দামে জ্বালানি নিশ্চিত করাকেই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য বলেছিলেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে মোতায়েন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগও সামনে এসেছে। প্রায় নয় মাস সাগরে থাকা রণতরীটির নাবিকদের পরিবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ট্রাম্প তা নাকচ করে দিয়েছেন। তবে শিগগিরই রণতরীটি বদলে অন্য একটি জাহাজ পাঠানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন গণমাধ্যমে কয়েকজন নাবিকের সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার খবর প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হাং কাও মানসিক অবসাদে আক্রান্ত কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে জুনে সংঘাত নিরসনে হওয়া চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কেবল বার্তা আদান-প্রদান চলছে। এটি যুদ্ধ বন্ধের আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়। চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ অতিক্রমকারী জাহাজে হামলা পুনরায় শুরু করেছে।
