ডেস্ক রিপোর্ট ॥ দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকায় পৌঁছেছে। জাতীয় সংসদে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদ সদস্য রেজা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, জনগণের ওপর ঋণের বোঝা কমাতে রাজস্ব বাড়ানো এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঋণ ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে সরকারের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করা হবে। এতে সরকারের ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমবে। পাশাপাশি সরকারি ব্যয়কে আরও সাশ্রয়ী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ও কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে সরকারের অর্থায়নের চাপ কমানো হবে।
সরকারি ঋণের সুদের হার এবং পুনর্বিত্তায়নের ঝুঁকি কমাতেও বাজারভিত্তিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ঋণ ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারকে কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণের বাজার সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীর ভিত্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সীমা মেনে চলা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের সুদ বা মুনাফার হার বাজার পরিস্থিতি এবং প্রচলিত সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তার মতে, এসব ব্যবস্থার ফলে উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং সরকারের সামগ্রিক সুদ-ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ঋণ পোর্টফোলিও গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ ঠেকাতে সরকার একটি বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ গ্রহণ, সরকারি অর্থায়নের চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদে জনগণের মাথাপিছু ঋণের বোঝা কমানোর পরিবেশ তৈরি করা হবে।
