আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে পরিচালিত এই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
পেন্টাগনের অর্থবিষয়ক প্রধান জুলস হার্স্ট তৃতীয় জানিয়েছেন, যুদ্ধ চলাকালীন ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত ও প্রতিস্থাপনের ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সামগ্রিক যুদ্ধ ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিহত হওয়ার দাবি করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (CRS) জানায়, এই সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪২টি বিমান ও ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তালিকায় আধুনিক যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান, রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার এবং বিভিন্ন ধরনের ড্রোন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, এই যুদ্ধ থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে “আরও বড় চমক অপেক্ষা করছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বিপুল সামরিক ব্যয় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত ও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে।
