আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ মার্কিন বিমান হামলার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। ইরানের সীরিক শহরের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় সম্মিলিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, হামলায় পেন্টাগনের একটি মেরামত কেন্দ্র, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম রাখার গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। একটি ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে আইআরজিসির এসব দাবি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বাহরাইনে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। গত ছয় ঘণ্টায় তৃতীয়বারের মতো জরুরি সতর্কবার্তা জারি করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবাইকে শান্ত থাকার এবং নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রণালয় বলেছে, জনগণকে অফিশিয়াল চ্যানেল থেকে তথ্যের আপডেট অনুসরণ করতে হবে।
এর মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের কফর রেমান ও আরব সালিম এলাকার উপকণ্ঠে দুটি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
এর আগে ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের তিনটি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাতজন নিহত এবং আটজন আহত হন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা প্রদেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-গভর্নরের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
