আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। একই হামলায় গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান তার ছেলে মোজতবা খামেনি এবং পরবর্তীতে তিনি দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকায় তার অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টাইমস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার আঘাতে মোজতবা খামেনি এখনো সংজ্ঞাহীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কূটনৈতিক মেমোর তথ্য বলছে—৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমে গুরুতর শারীরিক অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এতটাই সংকটাপন্ন যে তিনি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারছেন না।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি প্রথমবারের মতো তার অবস্থান ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ পেল। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত ওই প্রতিবেদন উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে।
এদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা ৩৯ দিনে পৌঁছেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ এই সংঘাতে ইরানে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধের কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান নয়। ফলে নেতৃত্ব সংকট, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
