আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। ইরান এই প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের ঘোষণা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিষয়টি।
ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবায়ি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি তেহরানের জন্য একটি কৌশলগত রেড লাইন এবং এখানে চলাচলকারী জাহাজকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালে টোল দিতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন এই প্রণালি দিয়ে হওয়ায় এর নিরাপত্তা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে নতুন শর্ত আরোপের ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান–যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেলেও কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আলোচনার বড় বাধা ছিল হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রশ্ন।
শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির আলোচনায় এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অচিরেই প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের দুটি ডেস্ট্রয়ার প্রণালি অতিক্রম করে সমুদ্রপথে মাইন অপসারণ কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। তবে ইরান এ দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেনি।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের যেকোনো চেষ্টা কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে। ফলে পরিস্থিতি কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
