প্রযুক্তি ডেস্ক ॥ দেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত অপরাধী শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর ফলে অপরাধ তদন্তে গতি এসেছে এবং অনেক জটিল মামলার রহস্য অল্প সময়েই উদঘাটন সম্ভব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিসিটিভি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক, ফেস রিকগনিশন সফটওয়্যার, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব এবং মোবাইল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি এখন অপরাধ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মহানগরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিপণিবিতান ও জনসমাগমস্থলে স্থাপিত ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের দ্রুত শনাক্ত করা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল ফরেনসিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে অপরাধের সূত্র পাওয়া সহজ হয়েছে। সাইবার অপরাধ, প্রতারণা, চুরি, ছিনতাই এবং সংগঠিত অপরাধ দমনে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের ফলে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ আরও নির্ভুল হচ্ছে। আগে যেখানে প্রত্যক্ষদর্শীর ওপর নির্ভরতা বেশি ছিল, এখন ডিজিটাল ডেটা অপরাধ প্রমাণে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করছে।
তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্মার্ট নজরদারি ব্যবস্থা ও জাতীয় ডাটাবেইস সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করা হবে। এতে অপরাধ সংঘটনের আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
