ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ভুক্তভোগীদের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি বলেছে, নির্যাতনের শিকার শিশু বা নারীর ছবি, ভিডিও কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা তাদের প্রতি আরেক ধরনের মানসিক নির্যাতনের শামিল।
এক বিবৃতিতে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হলে তাদের এবং পরিবারের মানসিক কষ্ট আরও বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের এ ধরনের কনটেন্ট শেয়ার বা পুনরায় শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতিতে নারী ও শিশুদের জন্য মানসিক ও সামাজিক সহায়তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ইউনিসেফ মনে করে, সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সুস্থভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে কাউন্সেলিং, সামাজিক সহায়তা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংস্থাটি আরও জানায়, স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা এবং বিভিন্ন কেয়ার সেন্টারে জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর তদারকি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, প্রতিটি শিশুর সমাজ, বিদ্যালয়, পরিবার এবং জনসমাগমস্থলে নিরাপদ থাকার অধিকার রয়েছে। এমনকি তাদের গল্প, ছবি বা তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নারী-শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
