ডেস্ক রিপোর্ট ॥ শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানো এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে দেশের পাবলিক পরীক্ষার কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা এবং পরীক্ষার কর্মদিবস উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষায় ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসিতে ৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়ের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার্থীদের শিখন ঘণ্টা কমে যায়।
নতুন পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো পরীক্ষার সময়কাল কমিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ হ্রাস করা।
এদিকে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনায় চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হবে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’।
নতুন কাঠামোতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। কিছু ক্ষেত্রে একটি বিষয়ের সঙ্গে বড় অধ্যায় যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে বিদ্যমান শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করে নতুন রূপ দেওয়া হবে এবং ২০২৮ সালে সম্পূর্ণ নতুন কাঠামো কার্যকর হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো একদিনে সমাধান সম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জানিয়েছেন, সনদনির্ভর শিক্ষা থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানমুখী করতে বড় সংস্কার কার্যক্রম চলছে।
