আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ আবারও পারমাণবিক আলোচনা টেবিলে বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর দুই পক্ষ কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে।
আঞ্চলিক এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, সৌদি আরব, মিশর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেবেন। এসব দেশের উপস্থিতি আলোচনাকে বহুপাক্ষিক রূপ দেবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সমন্বয় বাড়াবে।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন বলে জানা গেছে। তুরস্ক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় রয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রায় দুই যুগ ধরে টানাপোড়েন চলছে। গত বছরের জুনে এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সরাসরি সংঘাত হয়। ১২ দিনের যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি হলেও অবিশ্বাস দূর হয়নি।
উপরন্তু, গত জানুয়ারির মাঝামাঝি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর মোতায়েনের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা বাড়ায়।
তবে সম্প্রতি কূটনৈতিক বক্তব্যে কিছুটা আশার ইঙ্গিত মিলেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী।
একই সময়ে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, কয়েকটি মিত্রদেশ দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরিতে মধ্যস্থতা করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দেয়, তাহলে আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, ইস্তাম্বুল বৈঠক সফল হলে তা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
