আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আনুষ্ঠানিক শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হচ্ছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য বাজেট অধিবেশনের কার্যসূচিতে এ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রাজ্যসভা সচিবালয়ের প্রকাশিত কার্যতালিকা অনুযায়ী, অধিবেশনের শুরুতেই তিনজন প্রয়াত নেতার স্মরণে শোকপ্রস্তাব পাঠ করা হবে। এরপর সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করবেন।
এই তিনজনের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ভারতের তামিলনাড়ুর বর্ষীয়ান রাজনীতিক এল গণেশন এবং ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুরেশ কালমাদি।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো প্রতিবেশী দেশের সাবেক সরকারপ্রধানের মৃত্যুতে ভারতের সংসদে শোকপ্রস্তাব আনা দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ।
বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৯ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।
তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও আসে অসংখ্য শোকবার্তা।
৩১ ডিসেম্বর তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন এবং একাধিকবার ভারত সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করেছেন।
রাজ্যসভায় শোকপ্রস্তাব গ্রহণের সিদ্ধান্তকে তার রাজনৈতিক জীবন ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অধিবেশন শেষে শোকপ্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
