ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে রাজধানীর উত্তরা এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বহু মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে দেশে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই ধারাকে ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উত্তরার আজমপুর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর হয়ে রাত ১২টা ৫২ মিনিটে জনসভায় পৌঁছান তারেক রহমান। বক্তব্যের শুরুতে দেরিতে আসার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জানান, পথে পথে মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করায় সময় লেগেছে।
তারেক রহমান বলেন, নিয়মিত বিল দেওয়ার পরও মানুষ গ্যাস ও পানির সংকটে ভুগছে, যা চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। দীর্ঘদিন নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধান না হওয়ায় সংকট আরও জটিল হয়েছে। তিনি বলেন, এই সংকট কাটিয়ে উঠে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরার মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি সরকারি হাসপাতাল। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই দাবির বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, খাল ও জলাধার ভরাট ও শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সংকট বাড়ছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা রয়েছে।
যানজটকে ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নিরসনে বিএনপির একটি সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, উত্তরাসহ সারা দেশে অল্পশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এতে একটি সমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬–১৭ বছরে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে উত্তরার মানুষের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয়।
সমাবেশ শেষে তিনি খুন ও গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং রাত ১টা ১৭ মিনিটে সভাস্থল ত্যাগ করেন।
