আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে তেহরানজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আহ্বানের এক ব্যতিক্রমী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৪ জুন) রাজধানীর রাজপথে লাখো মানুষের উপস্থিতি দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের বড় একটি অংশ মনে করছেন, খামেনির মৃত্যু শুধু রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের ক্ষতি নয়, বরং জাতির জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি।
গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে সমবেত জনতার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পায়। অংশগ্রহণকারীরা হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার দাবি জানান এবং প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
রয়টার্সকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের বাসিন্দা আরশ রাহিমি বলেন, তারা তাদের নেতার হত্যার বিচার চান এবং রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার সংকল্প থেকে সরে আসবেন না। তার দাবি, খামেনি সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতার কথা বলতেন এবং সেই অবস্থানই জনগণের মধ্যে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে।
হামাদান প্রদেশ থেকে আসা হামিদ তেইমোরি বলেন, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর সংবাদ তাকে এমনভাবে নাড়া দিয়েছে, যা নিজের বাবার মৃত্যুর সময়ও অনুভব করেননি। তিনি জানান, এই শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন দেশ পরিচালনা করা খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে ইরান সরকার জাতীয় ঐক্য ও জনগণের আবেগকে সামনে আনতে চাইছে। তাদের মতে, এই বিশাল জনসমাগম শুধু শোক প্রকাশের অনুষ্ঠান নয়, বরং পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
