নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল জিলা স্কুলে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কোচিং ক্লাসে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের ২০৮ নম্বর কক্ষের সামনে দিবা শাখার শিক্ষার্থী আল আরাফ ও বর্ষন বেপারীকে শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান সরদার মারধর করেন বলে তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান সরদার ও মো. হোছাইন ২০৯ নম্বর কক্ষে প্রভাতি শাখার শিক্ষার্থীদের কোচিং করাচ্ছিলেন। দুপুর ১২টার পর দিবা শাখার শিক্ষার্থীরা ২০৮ নম্বর কক্ষের সামনে ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন শিক্ষার্থী কোচিং চলার সময় কক্ষের সামনে হাঁটাহাঁটি এবং দরজায় ধাক্কা দিলে শিক্ষক রফিকুজ্জামান ক্ষুব্ধ হন। এরপর তিনি বের হয়ে আল আরাফ ও বর্ষন বেপারীকে ধরে মারধর করেন।
আল আরাফের মা মারিয়াম আক্তার লিজা বলেন, তার ছেলে কোনো ধরনের বিরক্ত করার সঙ্গে জড়িত ছিল না। দৌড়ে পালিয়ে না যাওয়ায় তাকে মোটা লাঠি দিয়ে দুই পায়ের উরুতে মারধর করা হয়। তার গলা থেকে আইডি কার্ড খুলে নিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মারিয়াম আক্তারের দাবি, ঘটনার পর আল আরাফের জ্বর এসেছে এবং সে ঠিকমতো হাঁটতে পারছে না। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান সরদার বলেন, অভিযোগটি সত্য এবং এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক তাদের সঙ্গে বসবেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শুনেছেন এবং শিক্ষার্থীর পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। সোমবার বিষয়টি নিয়ে বসে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
