আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সৌদির দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। বাংলাদেশ সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে এ দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন পরিচালনায় ব্যবহৃত ওই ঘাঁটির কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। ঘাঁটি থেকে ইয়েমেনের ভূখণ্ড ও জনগণের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো হচ্ছিল দাবি করে তিনি এটিকে প্রতিশোধমূলক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময় জানাননি তিনি।
এদিকে সৌদির কৌশলগত ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনে পৃথক ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের বন্দর দিয়ে সৌদি তেল রপ্তানির একমাত্র বিকল্প পথ হিসেবে বিবেচিত এই পাইপলাইনে হামলার কারণে তেল পরিবহন আপাতত সম্পূর্ণ স্থগিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসরমান হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডাবলিনে সাংবাদিকদের তিনি জানান, হুথিরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো লড়াই করতে চায় না। তাদের অভিযানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধও তারা জানিয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
তবে সৌদির প্রধান তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার মন্তব্য, অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা বাড়াতে তেহরান এই হামলার পেছনে জড়িত থাকতে পারে।
এদিকে গত সপ্তাহ থেকেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের নতুন করে তুমুল সংঘাত চলছে। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
