ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ হাজার ৫৮০টি পদে নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপের ভোট আগামী ১২ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে শেষ ধাপে ২৭ মে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি এবং ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার নির্বাচন কমিশনে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এসব তথ্য জানান। এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সকালে সভা করে। বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে আগামী ১২ নভেম্বর দেশের ৬৩ জেলার ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়নে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আনুষ্ঠানিক তপশিল পরে ঘোষণা করা হবে। বিভিন্ন পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, রমজান ও ঈদের সময় বিবেচনায় নিয়ে সাত ধাপে ভোটের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃবিভাগীয় বৈঠকের পর সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হবে।
এদিকে প্রায় এক দশক পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। ২০২১ থেকে ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচন বর্জন করেছিল দলটি। এর আগে ২০১৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। এবার ভোটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক সমর্থনপ্রত্যাশী থাকায় দলটির সামনে বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে গড়ে ৭ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত বিএনপির সমর্থনপ্রত্যাশী রয়েছেন। অনেকেই কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আগেই জনসংযোগ শুরু করেছেন।
তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে অন্যদের ওই প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করা বিএনপির জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থীদের মোকাবিলা এবং কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে কৌশল নির্ধারণও দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। অধিকাংশ এলাকায় তারা প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এবং অনেক প্রার্থীকে মাঠে নামিয়েছে।
সংশোধিত আইন অনুযায়ী এবার দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয়ভাবে একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তিন ধাপে মতবিনিময় করবে। আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর দলগুলোর দুজন করে প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। নির্বাচনে সব দলের সহযোগিতা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট আয়োজন করতে চায় কমিশন।
