ডেস্ক রিপোর্ট ॥ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের মসজিদে এই দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
জুমার নামাজ শেষে ইমাম ও খতিবের নেতৃত্বে মুসল্লিরা মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। দোয়ায় তার আত্মার শান্তি, জান্নাতুল ফেরদৌস লাভ এবং মহান আল্লাহর কাছে পরকালীন মুক্তির জন্য বিশেষভাবে প্রার্থনা করা হয়। একই সঙ্গে তার পরিবার-পরিজন ও অনুসারীদের জন্য ধৈর্য ও মানসিক শক্তি কামনা করা হয়।
দোয়ার সময় মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের অনেককেই আবেগে আপ্লুত হতে দেখা যায়। কেউ কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। দোয়ার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্যও প্রার্থনা করা হয়।
জানা যায়, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ইন্তেকালের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে তার জন্য দোয়া ও স্মরণ সভার আয়োজন করা হচ্ছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পরের এই দোয়া কর্মসূচি তারই ধারাবাহিক অংশ।
এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সারাদেশে একযোগে দোয়া আয়োজনের জন্য আহ্বান জানায়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাটির জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত তিন দিনের শোক কর্মসূচির অংশ। ফলে দেশের সব মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে হবে। একই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর ক্ষেত্রেও। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীন সব দপ্তর ও কার্যালয়েও তিন দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর বুধবার পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় অনুষ্ঠিত তার জানাজায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
