ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন ঘিরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় ভুল ও অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশে ক্ষোভ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার বলছে, যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং সহিংস পরিস্থিতি উসকে দিচ্ছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, সরকার দেশের গণমাধ্যমের কাছ থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে। তিনি উল্লেখ করেন, গত দেড় বছরে গণমাধ্যম নজিরবিহীন স্বাধীনতা ভোগ করলেও যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বারবার ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে।
প্রেসসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আবদুল্লাহ আল জাবের আহত হন। সংঘর্ষে আহত আরও অনেক কর্মী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
তিনি বলেন, জাবেরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া একটি পোস্টে তাকে ‘গুলিবিদ্ধ’ বলা হয়। এই শব্দটি সাধারণত সরাসরি গুলিতে আহত হওয়ার ধারণা দেয় এবং সেটিই জনমনে আতঙ্ক ছড়ায়।
শফিকুল আলম অভিযোগ করেন, অনেক গণমাধ্যম কোনো ধরনের যাচাই ছাড়াই ওই ফেসবুক পোস্টকে ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশ করে। ফলে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তিনি জানান, সরকার দ্রুত ডিএমপির সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয় যে ঘটনাস্থলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে পুলিশ এখন আর প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করে, কেউ গুলিবিদ্ধ হননি।
সংবাদ সংগ্রহকে গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে প্রেসসচিব বলেন, একটি ভুল সংবাদ দাঙ্গা ও অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি অতীতে মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার পর ভুল সংবাদের কারণে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতির উদাহরণ তুলে ধরেন।
তার মতে, সাংবাদিকরা অন্যদের দায়িত্বশীলতার কথা বললেও নিজেদের ক্ষেত্রে আত্মসমালোচনায় পিছিয়ে থাকেন, যা গণতন্ত্র ও সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।
