ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥ ঝালকাঠি জেলা একসময় ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবারের নির্বাচনি সমীকরণ একমাত্রিক নয়। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা, নতুন জোটের অংশগ্রহণ এবং তরুণ ভোটারদের শক্তিশালী ভূমিকা জেলার দুই আসনে ভোটের হিসাব নতুন করে লিখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের ভোটে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়নপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ড. ফয়জুল হক, তার সঙ্গে মাঠে রয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. মাহামুদা মিতু। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ইব্রাহীম আল হাদী এবং বিএনপি মনোনয়ন না পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মঈন ফিরোজসহ ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “ঝালকাঠি-১ আসন বিএনপির ঘাঁটি। জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে বিপুল ভোটে বিজয় করবে। নির্বাচিত হলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, হাসপাতাল স্থাপন, সড়ক উন্নয়ন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করছি।” ড. ফয়জুল হক বলেন, “জনগণ হামলাবাজ, চাঁদাবাজ ও মামলাবাজ রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। তরুণ ভোটাররা পরিবর্তন চাইছে। দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হবে।”
ঝালকাঠি-২ (সদর ও নলছিটি) আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এবং জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমের মধ্যে। এ আসনে জামায়াতের পক্ষে এবি পার্টির প্রার্থী শেখ জামাল হোসেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে দাঁড়িপাল্লাকে সমর্থন দিয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজীও মাঠে রয়েছেন। ইলেন ভুট্টো বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং ঝালকাঠি-২ আসন তাকে উপহার দেওয়া হবে।” শেখ নেয়ামুল করিম বলেন, “অতীতের জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচিত হলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ, মেডিকেল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। যুবকরা উদ্যোক্তা হবেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঝালকাঠি-২ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত হেভিওয়েট নেতাদের অনুসারীদের ভোট বিভাজন ধানের শীষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় শক্ত ভোটব্যাংক রাখায় ভোট বিভাজন জামায়াতের পক্ষে যেতে পারে।
ঝালকাঠি জেলার মোট দুইটি সংসদীয় আসনে রাজাপুর, কাঁঠালিয়া, সদর ও নলছিটি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত। ঝালকাঠি-১ আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৬ জন, ঝালকাঠি-২ আসনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২৯০ জন। দুই আসনের মোট ভোটার প্রায় ছয় লাখ। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দুই আসনের এক-তৃতীয়াংশ ভোটার তরুণ। ফলে তাদের ভোটের দিকনির্দেশনা ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে এবারের ঝালকাঠি নির্বাচন ধানের শীষ এবং দাঁড়িপাল্লার মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। প্রভাবশালী নেতাদের মনোনয়নবঞ্চিত অবস্থান, তরুণ ভোটারের সক্রিয়তা এবং জোট সমর্থনের ভারসাম্য ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।
