ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা এবং সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্টগার্ডের পাশাপাশি ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবেন। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত দিন এসব বাহিনী মাঠে থাকবে।
নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সদস্য সরাসরি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পুলিশের প্রায় দেড় লাখ, সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ এবং বিজিবির ৩৫ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানাভিত্তিক কাজ করবে। উপকূলীয় ও নদী অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষভাবে দায়িত্ব পালন করবে কোস্টগার্ড। সব বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে রিপোর্ট করবে এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬–১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭–১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম ঘোষিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রগুলোতে ১৬–১৮ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবে। তারা ভোটগ্রহণের দুদিন আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।
এ নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট ২ হাজার ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন, বাকিরা ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের জন্য সারাদেশে ৩০০ আসনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে মাঠে থাকবেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
