ঢাকাবুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরির খবর
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জাতীয়
  12. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংস্কার থেকে মব-বাস্তবতা: ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের পর্যালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদন
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ‘সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন’—এই তিন অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা সরকারটির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এই সময়ে সরকারের অর্জন ও ব্যর্থতা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে বিভিন্ন মহলে।

প্রথমদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্রুত নির্বাচনের দাবির মুখে প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬-এর মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। পরে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার পর ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগেই নির্বাচনের ঘোষণা আসে। নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন নির্ধারণ করে এবং একই দিনে সংস্কার প্রশ্নে গণভোটেরও সিদ্ধান্ত হয়।

রাষ্ট্রসংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি কমিশন গঠন এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে ৩০টি বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠাকে সরকার বড় অর্জন হিসেবে দেখছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সংস্কার প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকতার ঘাটতি ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারের অভ্যন্তরীণ অংশের কারণেই অগ্রগতি থমকে যায়।

বিচার প্রসঙ্গে সরকার উল্লেখ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়, ৮৩৭টি মামলা এবং চলমান বিচার কার্যক্রমের কথা। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। মব হামলা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর চাপ ও আটক—এসব ঘটনা সরকারের সামাজিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা নির্দেশ করে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা সরকারকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ফেলে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার বলছে, রিজার্ভ বেড়েছে, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা এসেছে, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে থাকায় সাধারণ মানুষের চাপ কমেনি।

নারীর সমতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও বাকস্বাধীনতার প্রশ্নেও সরকারের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রধান উপদেষ্টা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

সরকারের দৃষ্টিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনের দিকে দেশকে এগিয়ে নেওয়া বড় সাফল্য। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও মানবাধিকার রক্ষায় ঘাটতি সরকারের সামগ্রিক মূল্যায়নকে জটিল করে তুলেছে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু নতুন সরকারই নির্ধারণ করবে না, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের অধ্যায়েরও আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানবে—যার মূল্যায়ন হয়তো আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।