আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের সপ্তম দিনে শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে নজিরবিহীন বিমান হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৮১ জন শিশু রয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিন দক্ষিণ ইরানের মিনাব এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় ১৭৫ জন শিশু ও কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই স্কুলে হামলার জন্য সম্ভবত মার্কিন বাহিনীই দায়ী হতে পারে বলে সামরিক তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইচ্ছাকৃত হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। যদি এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের ইতিহাসে অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এদিকে তেহরানে অবস্থানরত আল-জাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব তেহরানে একের পর এক বিস্ফোরণে গোটা শহর কেঁপে উঠছে। সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি আবাসিক ভবন, পার্কিং লট ও গ্যাস স্টেশনের মতো বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের ওপর নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও বেশি যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান এই অভিযানে যুক্ত হবে এবং হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
