ডেস্ক রিপোর্ট ॥ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার পর আজ তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন। এরপর চিকিৎসার জন্য স্ত্রী রেবেকা সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংককে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) তার জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
গত শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর তা গ্রহণ করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য না রেখে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ অনুযায়ী তার দায়িত্ব ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও প্রায় ২১ মাস আগেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন। বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে কয়েক দিন ধরে ব্যক্তিগত মালপত্র গুলশানের বাসভবনে স্থানান্তর করা হয়। পাশাপাশি বাড়িটির পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজও সম্পন্ন হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বগুড়ার শেরপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমির বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন শেষে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, নতুন রাষ্ট্রপতি বিএনপির দলীয় প্রার্থী হবেন নাকি বাইরের কেউ—সে বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম ও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে। আশা করা হচ্ছে, সেই অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তাই বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজন নেই।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে অফিস করবেন, তবে তার সরকারি বাসভবন থাকবে সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই। বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণ, রাষ্ট্রীয় অতিথিদের সঙ্গে বৈঠক এবং জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানসহ রাষ্ট্রপতির সব আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বঙ্গভবন থেকেই পরিচালিত হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের অবসান ঘটবে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ রোববার সকাল ১১টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে এবং পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির প্রয়াত চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তথ্যসূত্র: সমকাল
