ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ব্যাপক হতাশা ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। দলটির অভ্যন্তরে কট্টরপন্থীরা এখনও সবচেয়ে সক্রিয় অবস্থানে থাকলেও সংস্কার বা অনুশোচনার পথে যেতে তারা অনাগ্রহী। ফলে দলটি কার্যত এক ধরনের ‘অপেক্ষার রাজনীতি’তে আটকে গেছে।
দলীয় সূত্র বলছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনড় অবস্থানের কারণে বিকল্প নেতৃত্ব গঠনের সব আলোচনা থমকে গেছে। কট্টরপন্থী নেতাদের ধারণা, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে আবারও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাই তারা কোনো ধরনের বড় সংস্কারের পক্ষেও নয়।
বর্তমানে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় নেতাকর্মীদের বড় অংশ রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। অনেক সাবেক সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতা দেশের ভেতরে বা বিদেশে অবস্থান করছেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
ভারত, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি অংশ ইতোমধ্যে স্থান পরিবর্তনও করেছেন। ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কেউ কেউ মালয়েশিয়া ও সাইপ্রাসের মতো দেশে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার। তার মতে, গায়ের জোরে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করলে তা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। তিনি বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে জনগণের সামনে জবাবদিহি ছাড়া টেকসই রাজনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
অন্যদিকে দলটির ভেতরে একটি অংশ এখনো শেখ হাসিনাকে একমাত্র নেতৃত্ব হিসেবে দেখছে এবং কোনো বিকল্প নেতৃত্ব মেনে নিতে নারাজ। ফলে দলীয় ঐক্য আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সব মিলিয়ে সাংগঠনিক শক্তি, নেতৃত্ব কাঠামো এবং রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা—তিন ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: প্রথম আলো
