আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি আবার শুরু হওয়ার কিছু লক্ষণ দেখা গেলেও সংঘাতের কারণে সরবরাহ যেকোনো সময় বাধাগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দর ৬৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৯১ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে দাম বাড়ার পর দ্বিতীয় কর্মদিবসেও ব্রেন্টের দর ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের প্রধান মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও একই সময়ে বেড়েছে। এ তেলের দর ৭২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৩২ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে তেল উৎপাদন ও পরিবহনে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে। এই আশঙ্কাই বর্তমানে তেলের দাম বাড়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী অঞ্চল হওয়ায় সেখানে সামরিক সংঘাতের প্রতিটি পরিবর্তন আন্তর্জাতিক তেলবাজারে প্রভাব ফেলছে। রপ্তানি স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমার সুযোগ রয়েছে। তবে সংঘাত বাড়লে বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
ফলে আগামী দিনে তেলের দাম কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ধারাবাহিকতার ওপর। আপাতত সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই বাজারে দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
