ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়ার সঙ্গে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলা কিউআর। গত ৯০ দিনে এ ব্যবস্থায় দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ গুণ বেড়েছে। একই সময়ে লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে প্রায় ৫ গুণ। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে গ্রাহক থেকে গ্রাহকে অর্থ স্থানান্তরের সুবিধা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান এসব তথ্য জানান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট সম্পন্ন হতো। এসব লেনদেনের দৈনিক গড় অর্থমূল্য ছিল ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট হচ্ছে, যার অর্থমূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশীয় কিউআর ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারণে ১ জুলাই থেকে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। একই সঙ্গে লেনদেনের প্রচার, কার্যকারিতা ও মূল্য নির্ধারণে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর গ্রহণকারী মার্চেন্টের হিসাবে অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট সর্বোচ্চ ১ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইমবার্সমেন্ট ফি শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে বাংলা কিউআর লেনদেনের গড় অর্থমূল্য বেড়ে ৪ হাজার ১০১ টাকা হয়েছে। জুনে এই পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা। আগামী ১ নভেম্বর থেকে পিটুপি সুবিধা চালু হলে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অর্থ পাঠাতে পারবেন। চাইলে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে কিউআর কোডের ছবি আপলোড করেও অর্থ স্থানান্তর করা যাবে।
গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে ব্যর্থ বাংলা কিউআর লেনদেনের অর্থ দ্রুত ফেরতের ব্যবস্থাও করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর পৃথক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান নির্দেশনায় বাংলা কিউআরভিত্তিক মার্চেন্ট লেনদেনের জন্য বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট কাঠামোও নির্ধারণ করা হয়েছে।
