ডেস্ক রিপোর্ট ॥ প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু একদিকে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজন তৈরি করছে। প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সচেতন ও সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তারেক রহমান বলেন, কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করার বিভিন্ন পদক্ষেপও বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রবীণদের অবহেলা না করে তাদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বাড়ানো এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কার্যক্রমও চলছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ইতোমধ্যে নারীপ্রধান পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য চালু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রবীণদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর বর্তমান বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে। তাই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে তাদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করা হবে। তিনি মনে করেন, ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি বজায় থাকবে, প্রবীণদের যত্ন ও মর্যাদাও তত বেশি সুরক্ষিত হবে। আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের সার্বিক সফলতা কামনা করে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
