পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥ তিন দফা দাবিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন বৃহস্পতিবার চরম আকার ধারণ করে। কর্মবিরতিতে থাকা শিক্ষকরা রাতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলে পরদিন সকালে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের গেটে আটকা পড়ে। এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বিক্ষোভ করতে থাকেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউসার হামিদ সকালেই বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে তালা ভাঙার নির্দেশ দেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করেন। কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা কেউই বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও অভিভাবকেরা পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করেন।
কুয়াকাটা শরীফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবকরাই তালা ভেঙে সন্তানদের পরীক্ষা নেন—যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিভাবকরা বলেন, “রাজপথের মতো বিদ্যালয়কেও আন্দোলনের মঞ্চ বানানো হয়েছে। বছরজুড়ে পড়াশোনা করা বাচ্চাদের পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা অন্যায়।”
মঙ্গলসূক মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, তাদের বিদ্যালয়ের ৭০২ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা পরিচালনা করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক শিউলী বেগম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে আন্দোলন করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা পরীক্ষার সময় বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে অভিভাবক, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ মনে করছেন—যত বড় দাবিই থাকুক, বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করে শিশুদের মানসিক চাপে ফেলা উচিত হয়নি। বিদ্যালয়ে তালাবদ্ধ পরিস্থিতি শিক্ষাক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
