পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥ পটুয়াখালীর মহিপুরে টানা পাঁচ মাস ধরে পলাতক থাকা ট্রলার মাঝি শহিদুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল ফকির গ্রেফতার হয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে র্যাব-৮ এর একটি টিম পশ্চিম খাজুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। সোহেল ফকির (৩৪), মৃত আমজেদ আলী ফকিরের ছেলে এবং এলাকায় তার বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক অপরাধের মামলা রয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, শহিদুল তার ট্রলারের জেলে ইব্রাহিমের কাছে ২ হাজার ৪০০ টাকা পাওনার দাবি করেন। এ নিয়ে আসামি সোহেল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বিরোধ হয়। শহিদুল বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে সোহেল ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। এরপর ২৬ জুন সন্ধ্যায় শহিদুল নিজ বাড়ির সামনে কাজ করার সময় আকস্মিকভাবে সোহেল ও তার সহযোগীদের হামলার শিকার হন। সোহেলের হাতে থাকা লোহার রডের শরীরজুড়ে আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ছোট ভাই রাসেল হাওলাদার বাদী হয়ে মহিপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ও র্যাব বহুদিন ধরেই প্রধান আসামির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছিল। অবশেষে র্যাবের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
র্যাব জানায়, অভিযুক্তকে মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। থানার ওসি মাহমুদ হাসান বলেন— ‘হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’ মামলাটি দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন নিহতের পরিবার।
