পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥ মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রাখাইন নারী লাচাউয়ের পক্ষে মানববন্ধন করেছে পটুয়াখালীর রাখাইন সম্প্রদায়। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়কের আলীপুর থ্রি-পয়েন্ট এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন, রাখাইন সমাজ কল্যাণ সমিতি ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে মহিপুর থানার বিভিন্ন পাড়ার দেড় শতাধিক রাখাইন নারী-পুরুষ অংশ নেন।
বক্তারা জানান, মিসেস লাচাউ (৮০) ২০০০ সালে তার স্বামী অংশাচিংকে সম্পত্তি দেখাশোনা, মামলা পরিচালনা ও বিক্রির ক্ষমতা প্রদান করেন, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত ছিল। ওই ক্ষমতাবলে আইনগত অনুমতি নিয়ে জমি বিক্রি করা হয় এবং দীর্ঘদিন সবাই বিষয়টি অবগত ছিলেন। ২০১০ সালে তারা দেশ ত্যাগের পর ১১–১২ বছর পর ২০২২ সালে লাচাউ দেশে ফিরে এসে আগের চুক্তি অস্বীকার করে জমি ক্রেতাদের বিরুদ্ধে হুমকি ও মামলা শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল লাচাউয়ের লোভকে ব্যবহার করে রাখাইন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এর ফলে এলাকায় রাখাইনদের সঙ্গে অন্যান্য বাসিন্দাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে এবং আদিবাসী রাখাইনদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে বসবাস করলেও এখন রাখাইন নারী ও শিশুরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রশাসনের নিরবতায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
মানববন্ধন থেকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধ ও রাখাইনদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন নেতারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাচাউ ও অংশাচিং অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
