ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ব গণমাধ্যমে তাকে ঘিরে প্রকাশিত হয় বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন।
রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে স্বামী ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে সাধারণত লাজুক ও নিবেদিতপ্রাণ গৃহবধূ হিসেবে দেখা হতো। তবে মাত্র তিন বছরের মধ্যেই তিনি তার স্বামীর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক পশ্চাদপদতা থেকে দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে তার প্রধানমন্ত্রীত্বের অধ্যায় শুরু হয়। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয় এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়।
আল জাজিরা ও রয়টার্স জানায়, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ কিডনি, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও চোখের জটিলতায় ভুগছিলেন। তার চিকিৎসায় বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যুক্ত ছিলেন। চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও দ্য গার্ডিয়ান জানায়, বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পাকিস্তানের ডন ও জিও নিউজ জানায়, ফজরের নামাজের পর তিনি ইন্তেকাল করেন। ভারতীয় ও পাকিস্তানি গণমাধ্যমে তার মৃত্যু সংবাদ প্রথম পাতায় গুরুত্ব পায়।
বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করা বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, প্রথম নারী সরকারপ্রধান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী নেত্রী। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে তাকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
