ডেস্ক রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এক অবিচ্ছেদ্য নাম। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হলেও তিনি কখনো ক্ষমতাকে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে দেখেননি। বরং গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও জনগণের অধিকার রক্ষাই ছিল তার রাজনীতির মূল দর্শন।
১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় অনেক পরে, ১৯৮১ সালে স্বামী জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর। তবে রাজনীতিতে প্রবেশের পর খুব দ্রুতই তিনি নিজেকে এক শক্তিশালী ও জনপ্রিয় নেতৃত্বে পরিণত করেন। ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
এরশাদের শাসনামলে আপসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বারবার কারাবরণ করেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৬ সালের প্রহসনের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তিনি স্বৈরাচারকে বৈধতা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তার এই দৃঢ় অবস্থান গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের নেতৃত্ব দিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আসেন এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনের প্রতিশ্রুতি দেন।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও তার ভূমিকা স্বীকৃত হয়। ফোর্বস ম্যাগাজিন ২০০৫ সালে তাকে বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় স্থান দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন সংগঠন তাকে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা প্রদান করে।
২০০৭ সালের পর সেনাসমর্থিত সরকার এবং পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে তাকে একাধিকবার কারাবরণ ও গৃহবন্দী থাকতে হয়। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যায়িত করে।
দীর্ঘ কারাবাস, অসুস্থতা ও নির্যাতনের মধ্যেও তিনি কখনো রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। অবশেষে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি মুক্তি পান।
গণতন্ত্রের জন্য নিরবচ্ছিন্ন লড়াই, আপসহীন মনোভাব এবং জনগণের প্রতি অগাধ আস্থাই খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।
