আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে। টানা দুই রাত ধরে দেশজুড়ে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও গুলির ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এই অস্থিরতার সূচনা হয় গত ২৮ ডিসেম্বর, যখন তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নামেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শুধুমাত্র গত বৃহস্পতিবার তেহরানেই ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৩ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।
বিক্ষোভকারীরা ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগানের পাশাপাশি ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পূর্ব রাজতান্ত্রিক পতাকা উড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় স্লোগান দিচ্ছেন।
পরিস্থিতির জন্য ইরান সরকার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ জানিয়েছে। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনের প্ররোচণায় একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রক্তাক্ত রূপ নিয়েছে।
এর বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান সরকার যদি সাধারণ মানুষ হত্যা বন্ধ না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে। ট্রাম্পের মতে, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও আন্তর্জাতিক চাপ—এই দুইয়ের মুখে ইরান সরকার এখন চরম বিপদের মধ্যে রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
