এইচ.এম.এ রাতুল ॥ বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে শীতকাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মৌসুমে বোরো ধান ও রবিশস্য চাষের ওপর নির্ভর করে লাখো কৃষকের জীবিকা। শীত এলেই কৃষকের মনে জাগে ভালো ফলনের স্বপ্ন, সংসারের অভাব দূর করার আশা। কিন্তু প্রকৃতির আচরণ অনেক সময় সেই স্বপ্নকে ভেঙে দেয়।
শীতকাল কৃষকদের জন্য নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। বিশেষ করে বর্ষা বা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষে মন দেন। বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, টমেটোসহ নানা সবজি দ্রুত বাজারজাত করা যায় বলে এটি কৃষকের জন্য লাভজনক। ভোরের ঠান্ডায় জমিতে নেমে কৃষাণীরা সার দেন, আগাছা পরিষ্কার করেন, চারার যত্ন নেন—সবই ভালো ফলনের প্রত্যাশায়।
তবে শীতের তীব্রতা বাড়লে সেই প্রত্যাশাই অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশা বোরো ধানের চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে। পাতায় রোগ দেখা দেয়, চারা দুর্বল হয়ে পড়ে। একইভাবে শীতকালীন সবজিও ক্ষতির মুখে পড়ে। অনেক কৃষক জানান, কয়েক দিনের কুয়াশাই পুরো জমির ফলন নষ্ট করে দিতে পারে।
আরেকটি বড় সমস্যা অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। শীতের আগে বা শীতকালে হঠাৎ বৃষ্টি হলে সবজির বীজ পচে যায়, জমিতে পানি জমে চাষাবাদ ব্যাহত হয়। এতে কৃষকের শ্রম ও অর্থ—দুটোই ঝুঁকিতে পড়ে। ঋণনির্ভর কৃষকদের জন্য এই ক্ষতি অনেক সময় ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন করে তোলে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর শীতকালকে শেষ আশ্রয় হিসেবে দেখেন অনেক কৃষক। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া সেই আশ্রয়কেও অনিশ্চিত করে তোলে। ফলে শীত কৃষকের কাছে এক দ্বৈত বাস্তবতা—একদিকে সম্ভাবনার মৌসুম, অন্যদিকে ভয় ও শঙ্কার সময়।
এই কারণেই শীত কৃষকের জীবনে শুধু উৎসবের মৌসুম নয়, বরং লড়াইয়ের নাম। ভালো ফসলের স্বপ্ন আর প্রকৃতির নিষ্ঠুর বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে কৃষক প্রতিদিন সংগ্রাম চালিয়ে যান।
