ঢাকাসোমবার , ১২ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরির খবর
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জাতীয়
  12. জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪
  13. ধর্ম
  14. নারী ও শিশু
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মঈনুল রোড: খালেদা জিয়ার ঠিকানায় লেখা এক রাজনৈতিক ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদন
জানুয়ারি ১২, ২০২৬ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মঈনুল রোডের একটি বাড়ি—যেটি থেকে ২০১০ সালে নাটকীয়ভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছিল বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে—সেই ঠিকানাই তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজের পরিচয়ের অংশ হিসেবে বহন করেছেন। এমনকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সময় জমা দেওয়া হলফনামাতেও এই ঠিকানাই উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনে প্রার্থী হওয়ার সময় খালেদা জিয়া শহীদ মঈনুল রোডের ওই বাড়িটিকে নিজের ঠিকানা হিসেবে দেখান। তবে স্থাবর সম্পত্তির কলামে তিনি স্পষ্ট করেন, বাড়িটি তার মালিকানায় নেই কিংবা তিনি সেখানে বসবাস করেন না।

এই বাড়ির ইতিহাস বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯৭২ সালে জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এখানেই তার বসবাস শুরু হয়। পরবর্তীতে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি হলেও এই বাড়িই ছিল তার পারিবারিক ঠিকানা।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বন্দিত্ব এবং ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব—এই দুই ঐতিহাসিক ঘটনাও এই বাড়ির চৌহদ্দিতেই সংঘটিত হয়। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তে বার্ষিক এক টাকা খাজনায় বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রায় ৩৮ বছর ধরে এই বাড়ি ছিল খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র এবং পারিবারিক জীবনের আশ্রয়স্থল। কিন্তু ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর এক নাটকীয় অভিযানে তাকে বাড়িটি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেওয়ারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এক কাপড়ে বেরিয়ে আসার দৃশ্য দেশজুড়ে আবেগ ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।

পরবর্তীতে ওই বাড়ি ভেঙে ফেলে সেখানে সেনানিবাসের কর্মকর্তাদের জন্য ১৪ তলা বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। ফলে ইতিহাসের সেই নীরব সাক্ষী আজ কেবল স্মৃতির পাতায় রয়ে গেছে।

খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠদের মতে, গুলশানের ‘ফিরোজা’য় বসবাস করলেও মঈনুল রোডের বাড়ির স্মৃতি তাকে সারাক্ষণ তাড়িয়ে বেড়াত। তার দীর্ঘদিনের গাড়িচালক নুরুল আমিন বলেন, বাড়িটি সাধারণ হলেও সেখানে রাষ্ট্রপতির পরিবার থাকার কারণে সেটি রাজকীয় রূপ নিয়েছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম বলেন, শহীদ মঈনুল রোডের বাড়িটি বিএনপির জন্ম ও বিকাশের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এটি শুধু একটি বাড়ি নয়, বরং বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতীক।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।